মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

mobiles2

প্রিয় উদ্যেক্তা বন্ধু , আমাদের এই সাইটের মুল উদ্যেশ্য হলো সকল উদ্যেক্তা বন্ধুদের জন্য একটি যোগ বন্ধন তৈরি করা আর উদ্যোক্তাদের আয় বাড়াবার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা করা। সে সুত্রেই আমরা আজ এখানে আলোচনা করবো একটি লাভজনক ব্যবসা সম্পর্কে যা উদ্যেক্তা গন সহজেই শুরু করতে পারেন। আর তা হচ্ছে মোবাইল ফোন সার্ভিসিং।বর্তমানে মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যা বিটিঅারসি তথ্য মোতাবেক জুন ২০১৬ তে নিম্নরুপ – এখানে গ্রাহক সংখ্যা মিলিয়নে দেয়া হয়েছে। এক মিলিয়ন মানে হচ্ছে ১০ লাখ। সুতরাং গ্রাহক সংখ্যা ১৩ কোটি ১৩ লক্ষ ৭৬ হাজার ।

Grameen Phone Ltd. (GP)

56.909

Banglalink Digital Communications Limited

31.941

Robi Axiata Limited (Robi)

27.442

Airtel Bangladesh Limited (Airtel)

9.892

Pacific Bangladesh Telecom Limited (Citycell)

0.702

Teletalk Bangladesh Ltd. (Teletalk)

4.490

Total

131.376

বুঝতেই পারছেন যে ,প্রতিনিয়তই যেহেতু মোবাইল নষ্ট হয় তাই এ ব্যপারে কাজ পাওয়াটা খুব সহজ । শুধুমাত্র হালকা প্রচারই যথেষ্ঠ। আর একটু ভালো লেভেলে সার্ভিস দিতে পারলে আপনি শুধু রিপেয়ারিং সেন্টারগুলোতে যোগাযোগ করেই তাদের কাছ থেকে অনেক কাজ পেতে পারেন। কিন্তু কথা হলো , আমিতো মোবাইল সার্ভিসিং জানি না ,যন্ত্র পাতি নাই, তেমন টাকাও নাই,  তাহলে কি করবো?

প্রথমে শেষ প্রশ্নটার উত্তর দেই। মোবাইল সমস্যা মুলত দুই প্রকার হতে পারে।

১. হার্ডওয়্যার সমস্যা বা যন্ত্রপাতির সমস্যা আর

২. সফট্ওয়্যার সমস্যা

আপনি সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান দিয়ে শুরু করতে পারেন, আর সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান দিতে শুধু একটি ইউ.এস.বি ডাটা ক্যবল থাকলেই হয়।এটির দাম খুবই কম । ২০০ টাকার নিচে।আর প্রত্যক এন্ড্রয়েড কিংবা অন্যান্য বর্তমান ফোনে এই ক্যাবলটি দেয়া থাকে । বাকি যা যন্ত্রপাতি এই মোবাইল সফটওয়্যার কাজের জন্য প্রয়োজন, তা আপনার কাছেই আছে।আর তা হলো , একটি কম্পিউটার আর একটি হাই স্পীড ইন্টারনেট কানেকশন। ডিজিটাল সেন্টার হবার সুবাদে এই দুটিই আপনার আছে। সুতরাং , বিনা খরচেই শুরু করতে পারছেন। এতো গেলো,  যন্ত্রপাতি আর প্রাথমিক ইনভেষ্টমেন্ট এর বিষয় । এবার আসি প্রথম বিষয়ে।আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

mobileS

প্রাথমিক ভাবে , আপনি যাতে কিছু না জেনেই এ কাজের মাধ্যমে আয় করতে পারেন, সে বিষয়ে কিছু আলোচনা করবো।

আপনারা কি টিম ভিউয়ার সফটওয়্যারটির সংগে পরিচিত? টিম ভিউয়্যার হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে আমি আমার পিসি থেকে আপনার পিসির ডেস্কটপ দেখতে পারবো এবং আপনার পিসিতে কাজও করতে পারবো। সুতরাং আপনার কোন সমস্যা আমি এখান থেকেই সমাধান করে দিতে পারবো। আমরা এক্ষেত্রে টিম ভিউয়ার এর বদলে এনিডেস্ক নামে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকি দুর থেকে সমাধান দেয়ার জন্য।একটা উদাহরনের মাধ্যমে বোঝাবার চেষ্টা করছি।

mobileS

মনে করুন , আপনি একটি মোবাইল পেলেন, যা কোন সার্ভিস ইন্জিনিয়ার বা টেকনিশিয়ানের দোকান থেকে দেয়া হয়েছে আপনাকে কাজ করে দেবার জন্য। সেটটি একটি এন্ড্রয়েড সিম্ফনি সেট যার মডেল নম্বর হলো w94 explorer. আপনি আমাদের স্কইপি, ভাইবার কিংবা ইমো তে আপনি মডেল নম্বর এবং সমস্যা জানালেন। আমরা আপনাকে সংগে সংগে জানালাম , এটা সম্ভব হতে পারে। এরপর আপনি স্কইপি, ভাইবার কিংবা ইমোতে ভয়েস কল কানেক্ট হলেন আর আপনার পিসি তে এনিডেস্ক (দেড় এম বি মাত্র ) চালালেন। আমরা এখান থেকেই সমস্যা সমাধান করে দিলাম। মনে করুন , এটার জন্য নির্ধারিত সার্ভিস ফি ৩০০ টাকা। আপনি ১০০ টাকা রেখে বাকি টা মানে ২০০ টাকা আমাদের সার্ভিস সেন্টারকে বিকাশ কিংবা ডিবিবিএল মোবাইল ব্যংকিং এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেন। আপনার লাভ রইলো – ১০০ টাকা। সাধারনত: সফটওয়্যার সমস্যাগুলোই বেশি হয় (প্রায় ৮০ শতাংশ) আর সাধারনত এর সার্ভিস চার্জ হয়ে থাকে সেটভেদে এবং সমস্যাভেদে  ২৫০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত । আশা করি , আপনি বুঝে গেছেন যে আপনার কাছেএই মুহুর্তে যা আছে , তা থেকেই আপনি বাড়তি আয় করতে পারেন। আর এ বিষয়ে প্রশিক্ষন নিলে আপনি নিজেই অনেক ষফটওয়্যারের কাজ করে ফেলতে পারবেন। সাথে খুব অল্প টাকার যন্ত্রপাতি কিনে হার্ডওয়্যার সমস্যার সমাধান করেও বাড়তি আয় করতে পারেন। এ বিষয়ে মোটামুটি মানের একটি প্রশিক্ষনে ৫০০০ টাকা ব্যয় হতে পারে। খুব ভা্লো মানের প্রশিক্ষন ব্যয় হতে পারে ১২০০০ টাকা। এবার আসি , আপনার এমন একটি খাত থেকে কেমন আয় হতে পারে?

আয় মুলত নির্ভর করে মার্কেটিং এবং আপনার কাজের সফলতার মাত্রার উপর ।একটি সম্ভাব্য আয়ের ধারনা নিচে দেয়া হলো।

মনে করুন , আপনি প্রচারনা চালালেন যে , আপনার এখানে মোবাইল সার্ভিসিং সেবা ( ডিজিটাল সেন্টার সেবা নম্বর -২৯ ) দেয়া হয়। প্রচারনার মাধ্যমে আপনি কাজ পেলেন এবং গড়ে প্রতিদিন প্রাথমিক একটি সফল সেবা দিলেন। সেক্ষে্ত্রে –

যদি আমাদের মাধ্যমে সেবা দিয়ে থাকেন তবে –

প্রতি সফল কাজে আয় গড়ে  – নুন্যতম ২০০ টাকা , সুতরাং মাসে ২৫ দিনে – ৫,০০০ টাকা ।

২ টি সফল কাজে আয় গড়ে – ২০০x2 = ৪০০ টাকা, সুতরাং মাসে ২৫ দিনে – ১০,০০০ টাকা ।

প্রতিনিয়তই কাজ বাড়তে থাকবে আর আয়ও বাড়তে থাকবে, বাকি টা আপনি হিসাব করে নিতে পারেন একই নিয়মে।

যদি প্রশিক্ষন নিয়ে নিজেই সেবা দিয়ে থাকেন তবে আয় হবে নুন্যতম তিন গুন , সহজ হিসাব। এক্ষত্রে কাউকে আয়ের লভ্যাংশ শেয়ার করতে হচ্ছে না।

আর ,আপনাকে বলেছিলাম যে , হাই-স্পীড ইন্টারনেট লাগবে। ১ এমবিপিএস হলেই চলবে। এর কারন হচ্ছে, সফটওয়্যারের কাজ করতে ফার্মওয়্যার ফাইল/ফ্লাশ ফাইল ডউনোড করতে হয়। গড়ে এমন একটি ফাইল ৫০০ মেগাবাইট হয়ে থাকে। যাদের হাই স্পীড ইন্টারনেট নেই , তারা আমাদের “ওয়্যারলেস ইন্টারনেট” বিজনেস আইডিয়াটি পড়ে দেথতে পারেন।আশা করি সমাধান পাবেন।

নতুন নতুন সার্ভিসের মাধ্যমে আপনার আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাক এই প্রত্যাশায় আজ এখানেই শেষ করছি। আপনার মন্তব্য, প্রশ্ন থাকলে মন্তব্য আকারে জানান ।উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। সবাইকে কুরবানী ঈদের অগ্রিম শুভচ্ছা।

 

 

3 thoughts on “মোবাইল ফোন সার্ভিসিং

মন্তব্য করুন